Neuromedicine Specialist in Cumilla – Dr. Md. Helalur Rahman

 

খিঁচুনি হলো মস্তিষ্কের নিউরনে অস্বাভাবিক ও অত্যধিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফলে সৃষ্ট একটি উপসর্গ, যা শরীরের নড়াচড়ায়, আচরণে বা চেতনায় ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তন ঘটায়। আর মৃগীরোগ হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক রোগ, যেখানে রোগী বারবার বিনা কারণে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। খিঁচুনি বা মৃগীরোগ উভয়ই রোগীর দৈনন্দিন জীবন, কাজ, ড্রাইভিং ক্ষমতা এবং সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ডা. মো. হেলালুর রহমান সকল প্রকার খিঁচুনি ও মৃগীরোগের আধুনিক ও কার্যকর ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলো-আপে বিশেষজ্ঞ।

সঠিক শ্রেণীকরণ ও রোগ নির্ণয়

মৃগীরোগের কার্যকর চিকিৎসার ভিত্তি হলো খিঁচুনির সঠিক শ্রেণীকরণ। খিঁচুনির ধরন (যেমন ফোকাল, জেনারেলাইজড বা অজ্ঞাত), কারণ এবং ফ্রিকোয়েন্সি বোঝার জন্য ডা. হেলালুর রহমান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রোগীর ইতিহাস সংগ্রহ করেন এবং প্রয়োজনীয় নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা করান। রোগ নির্ণয়ে তিনি প্রায়শই ইইজি পরীক্ষা ব্যবহার করেন, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে মৃগীরোগের ধরন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কিছু ক্ষেত্রে, মস্তিষ্কের কাঠামোগত সমস্যা বাতিল করার জন্য এমআরআই পরীক্ষা অপরিহার্য।

আধুনিক ওষুধভিত্তিক ব্যবস্থাপনা

মৃগীরোগের চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে অ্যান্টি-এপিলেপটিক ড্রাগস (AEDs) বা খিঁচুনি-বিরোধী ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। ডা. হেলালুর রহমান রোগীর খিঁচুনির ধরন, বয়স, লিঙ্গ এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সবচেয়ে উপযুক্ত AED বা একাধিক ওষুধের সমন্বয় (Polytherapy) নির্ধারণ করেন। তার চিকিৎসা পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো:

  • সম্পূর্ণ খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ: সর্বনিম্ন মাত্রার ওষুধ ব্যবহার করে রোগীকে খিঁচুনিমুক্ত রাখা।
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হ্রাস: ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির উপর নিবিড় নজর রাখা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা।
  • জীবনযাত্রার মান উন্নত করা: ওষুধ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করে এবং সামাজিক মেলামেশা ও কর্মজীবনে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।

নিয়মিত ফলো-আপ এবং সামাজিক স্বস্তি

মৃগীরোগ একটি দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা, যার জন্য নিয়মিত ফলো-আপ অত্যাবশ্যক। ডা. হেলালুর রহমান ওষুধের কার্যকারিতা ও রক্তের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করে ওষুধের ডোজ প্রয়োজন অনুসারে সামঞ্জস্য করেন। তিনি রোগীদের এবং তাদের পরিবারকে রোগটি সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দেন, যা খিঁচুনির জরুরি অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনে সতর্কতা অবলম্বন করতে সাহায্য করে। এই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে যে, রোগের বিস্তার রোধ হয় এবং রোগী খিঁচুনিমুক্ত একটি সামাজিক ও স্বাভাবিক জীবন সহজভাবে যাপন করতে পারে। নিউরোমেডিসিনে তার বিশেষায়িত জ্ঞান মৃগীরোগের জটিল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *